ওরা পাঁচ জন
🍁
নদীর পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে অয়ন,কেয়া,খেয়া,আয়রা।অয়ন আয়রার ছোট ভাই।"এই তাড়াতাড়ি পা চালা সবাই।মেডাম প্রাইভেট শুরু করে দিয়েছে মনে হয়। আজ অভ্রটা আসলো না"-আয়রা বলছে।কেয়া বলে উঠল, "কাল সারা দিন নদীতে মাছ ধরেছে।আজ জ্বর উঠেছে"।"এই অভ্রটার মাছের নেশা আর গেলো না।"-এই বলে আয়রা আবার হাঁটা শুরু করলো।সবাই মেডামের বাসায় গেলো। "কি ব্যাপার, অভ্র কোথায়?" মেডাম বললো। "অভ্রের জ্বর উঠেছে"- খেয়া বললো।"কেন?"-মেডাম প্রশ্ন করলো।আয়রা বলে উঠলো," মেডাম, ও কাল সারাদিন নদীতে মাছ ধরেছে"। আসুক ও, ওর খবর আছে"।
পরের দিন অভ্র ও পড়তে যায়।মেডাম দেখেই অভ্রের কানে ধরে বলে, " সারাদিন বনে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়াছ আর কয়েকদিন পরপরই অসুস্থ হস্।কয়েক মাস আগে গাছ থেকে পড়ে ১৫দিন বিছানায় পড়ে রইলি।তবুও ঠিক হলি না"।"মেডাম আর করব না, মাফ করে দেন"। "মনে থাকে যেন"।প্রাইভেট থেকে আসার সময় অভ্র বললো, "আমি যে নদীতে মাছ ধরেছি মেডাম কি করে জানলো।নিশ্চয় আয়রা বলেছে"।"বলেছি বেশ করেছি।আন্টি যে এত টেনশন করে তোর জন্য তোর কোনো মাথা ব্যাথা আছে?" "আসছে আন্টির চামচি।তোর মতো আতেল নাকি আমি"। "এই আমাকে আতেল বলবি না"।"বললে কি করবি? " " দাড়া তোর চুল যদি না ছিড়ি"।" ইহহ্ মেয়ে মানুষ হয়ে ছেলেদের মারতে আসে।গুন্ডি কোথাকার"।আয়রা দৌড় দিয়ে অভ্রকে ধরতে যায়।
হঠাৎ করে আয়রা পরে যায়।অভ্র দৌড়ে আসে আয়রার কাছে।কিরে পরলি কিভাবে? " ।"তোর জন্যই তো ",আয়রা বলল। "আমি কি করলাম তুই ই তো আমাকে মারতে আসলি।ব্যাথা পাসনি তো কোথাও"। "না"। বাকি তিন জন দৌড়ে আয়রার কাছে আসল। অয়ন বললো" আপু ব্যাথা পাওনি তো"।"না, অয়ন।আয়রা বললো । ওরা আবার হাঁটতে শুরু করলো।হঠাৎ করে অভ্র বলে উঠল," ওই দেখ ঐ দূরের তেতুল গাছটায় কত তেতুল।চলো সবাই পেরে আনি"।আয়রা বললো, "ওই খানে যে কেউ যায় না তা তুই জানিস না?এত বছরের পুরনো তেঁতুল গাছ। আবার তেঁতুল গাছকে ঘিরে কি ঘন বাঁশ ঝাড়।অনেকে তো বলে এই বাঁশ ঝাড়ে নাকি একটা খুলি আছে।যেটা নাকি কথা বলে,নড়তে পারে।মনে হলেই তো গা ছমছম করে।"।এই বলে অভ্র বাদে সবাই হাঁটা শুরু করল।অভ্র তখন বলে উঠলো," ভীতুর ডিম একেকটা।যাহ্, ওই আতেল টার সাথে বাসায় গিয়ে বসে থাক"।"এই আতেল বলবি না"।-আয়রা বললো।"তাহলে চল। যদি যাস আর কখনও বলবো না"।"সত্যি তো ?" "হ্যাঁ "।আয়রা একটু ভেবে যেতে রাজি হলো।সবাই ভয়ে ভয়ে তেঁতুল গাছের কাছে যাচ্ছে ।অভ্র গিয়ে তেঁতুল গাছে উঠে তেঁতুল পারা শুরু করল। বাকীরা নিচে দাঁড়িয়ে আছে।
অভ্র অনেক গুলো তেঁতুল পেরে নিচে নেমে এসে বললো," দেখ কিছু হয়নি "।এমন সময় হঠাৎ করে ওদের মাথার উপর কিসের যেন আওয়াজ হলো।সবাই ভয়ে দৌড়ে চলে যাচ্ছে। অভ্র উপরে তাকিয়ে বললো," আরে গাঁধার দল বাতাসে দুইটা বাঁশ একসাথে লাগছে যার কারণে এই আওয়াজ"। সবাই উপরে তাকিয়ে দেখলো আসলেই তাই।অভ্র বললো," এতটুকু পর্যন্ত যখন আসছি চল এই বাঁশ ঝাড়টার ভেতরে গিয়ে দেখি খুলির কাহিনী টা আসলে কি।বাকিদের ও ভয় একটু কমেছে।ওরা রাজি হলো। আয়রা অয়নের হাত ধরে বললো," সবসময় আপুর হাত ধরে রাখবে"।"আচ্ছা আপু"-অয়ন বললো। সবাই বাঁশ ঝাড়টার কাছে চলে গেলো।এত ঘন বাঁশ ঝাড় যে,দিনের বেলায়ও অন্ধকার হয়ে আছে। চারদিকটা নিশ্চুপ হয়ে আছে।হঠাৎ করে অভ্র বলে উঠলো," ওই তো খুলি টা। ওই বাঁশ গাছটার উপরে।চল এটা নিয়ে আসি"।কেউ রাজি হলো না।অভ্রই গেলো। অভ্র একটু কাছে যাওয়াতে খুলির মধ্যে আলো জ্বলে উঠল।আর চারদিকে কেমন বিকট আওয়াজ শুরু হলো।সমস্ত বাঁশ ঝাড় কেঁপে উঠল।সবাই চিৎকার করে এক দৌড়ে নদীর কাছে চলে গেলো। এবার অভ্র ও ভয় পেয়েছে।বাকিরা তো ভয়ে কান্নাই শুরু করে দিল।সবচেয়ে বেশি কান্না করছে অয়ন।আয়রা ওকে সান্তনা দেওয়ার জন্য বলে," কিছু হবে না ভাই।আমরা চলে আসছি তো ওইখান থেকে"।কেয়া আপু অভ্রকে অনেক বকা দিলো। সবাই যার যার বাড়িতে চলে গেলো।গ্রামের সবাই সবাই আরো ভয় পেয়ে গেলো। এখন ওই দিকের নদীর পাড়ে ও আর কেউ যায়। কিছুদিন পর তারা প্রাইভেটে গেলো। আসার সময় দেখে নদীর পারে কিসের যেন একটা হট্টগোল,কাছে গিয়ে বুঝতে পারে
এক লোকের ৬বছরের ছেলেকে পাওয়া যাচ্ছে না।কে নাকি দেখেছে বাঁশ ঝাড়ের ভেতরে যেতে।খুলি নাকি বলেছে ওকে নিয়ে নিয়েছে ওর কাছে।অভ্রকে দোষ দিচ্ছে ওর জন্যই এমন রেগে গেছে খুলি।আয়রা নদীর পাড়ে গিয়ে বসল।বাকীরা ও ওর পাশে গিয়ে বসল। অভ্রের ও মন খারাপ।অভ্র মাটির দিকে তাকিয়ে বসে আছে। আর বলছে, "সব দোষ আমারই"।আয়রা হঠাৎ কি যেন ভেবে বলে উঠলো," তোর কোনো দোষ নেই।ভালো করে ভেবে দেখ, তুই যখন কাছে গিয়েছিস খুলি টা জ্বলে উঠেছিল। কিন্তু হঠাৎ করে অফ হয়ে গেছে যেন মনে হচ্ছিল কারেন্ট চলে গেছে।কিন্তু আমরা তো তখন ও ওইখানেই ছিলাম।আর যে কথাটা শুনেছি সেটা তো গাছের নিচ থেকে আসছিল।কিন্তু খুলিটা তো গাছের উপরে ছিল।আওয়াজ তো উপর থেকে আসার কথা ।আর আমরা এতক্ষন ছিলাম কিছু হলো না আমাদের আর বাচ্চাটার ক্ষতি হয়ে গেল।কিছু একটা ব্যাপার আছে"। "আসলেই তো।এই না হলে আমার বান্ধবী! অনুশোচনায় আমার মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল।তার মানে ভূত টূত কিছু না।এ হলো মানুষ ভূতের কাজ"।কেয়া আপু বলে উঠলো, "মানে!" "আপু এটা হলো কোনো মানুষের কাজ। ভয় দেখিয়ে ঐ জায়গাটাকে আড়াল করে রেখেছে কোনো উদ্দেশ্যে। উদ্দেশ্য টা কি সেটা আমাদের জানতে হবে।"-আয়রা বললো।
তারপর ওরা প্ল্যান করল কিভাবে এই রহস্য ভেদ করা যায়।পরের দিন দুপুরে সবাই নদীর পাড়ে দেখা করল।" "তুই পুলিশ কে খবর দিয়েছিস তো"-আয়রা বললো। অভ্র বললো - "হ্যাঁ, ওনারা কাছেই থাকবে।আমি বাঁশি বাজালেই ওনারা চলে আসবে।তোদের যা যা জিনিস আনতে বলেছিলাম এনেছিস তো?" "হ্যাঁ"-আয়রা বললো।"তাহলে যাওয়া যাক।ওরা ৫জন বাঁশ ঝাড়ের পেছনের দিক দিয়ে ভেতরে গেলো।অভ্র আস্তে আস্তে একটা গাছের উপর উঠে দেখল ওরা যা ভেবেছে তাই। খুলিটার ভেতরে লাইট লাগানো। বাকী ৪জন গাছটার পেছন দিক দিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে গাছের কাছে গেল।কাছে গিয়ে দেখে লতাপাতা দিয়ে কি যেন ডাকা দেওয়া।খেয়া সরিয়ে দেখে একটা বড় সাউন্ড বক্স। আয়রা বললো-"এটা থেকেই ওইদিন আওয়াজ এসেছিল"।আয়রা হঠাৎ কিসের সাথে লেগে মাটিতে পড়ে যায়।খেয়া আর অয়ন আয়রা কে উঠাই।অভ্র ও ততক্ষণে গাছ থেকে নিচে নেমে আসে। আয়রা অভ্রকে বলে," এ জায়গাটার মাটিটা কেমন যেন নরম নরম।মনে হচ্ছে একটু আগে মাটি খুড়া হয়েছে"।অভ্র মাটি খুড়া শুরু করে।অনেক খানি মাটি খুড়ার পর কিসের যেন একটা বাক্স দেখে।বাক্সটা খুলে দেখে সাদা সাদা পাওডারের মতো প্যাকেট।"এতো হিরোইন!ওহ্ এ হলো আসল কাহিনী" ,অভ্র বলে উঠে।হঠাৎ করে ৭জন লোক চলে আসে। একজন বলে উঠে," কি বিচ্ছু বাচ্চা এগুলা।কালকের বাচ্চা গায়ের এর পর ভেবেছিলাম আর কেউ আসবে না এইখানে।তাই আজ আর আসিনি।কিন্তু এই বিচ্ছুর দল নিজের বিপদ নিজে ডেকে এনেছে "।"কে কার বিপদ এনেছে তা তো দেখাই যাবে, " কেয়া বললো। অভ্র হাসি দিয়ে বললো," সাবাস, কেয়া আপু।কেয়া আরও বললো," সবাই কে ভয় দেখিয়ে এই খানে হিরোইন লুকিয়ে রাখা বের করছি"।লোকগুলো জোরে হেসে উঠল।"এত বছর ধরে এই ব্যবসা করছি কেউ কিছু করতে পারলো না আর ওই দিনের বাচ্চারা আসছে আমাদের খবর নিতে"।অভ্র বললো," এই বাচ্চারাই তোমাদের বারোটা বাজাবে"।লোকগুলো এগিয়ে আসল ছুরি বের করে ওদের দিকে।তখনই আয়রা,খেয়া,অয়ন ওদের চোখে মরিচের গুড়ো দিয়ে দিল।অভ্র বাঁশিতে ফুঁ দিল।সাথে সাথে পুলিশ চলে আসলো। পুলিশ লোক গুলোকে ধরল,হিরোইন উদ্ধার করল ।ওদের থেকে ৬বছরের বাচ্চাটকে ও উদ্ধার করল।ওই জায়গায় ততোক্ষণে ভীড় জমে গেছে।পুরো গ্রামের মানুষ অভ্র,আয়রা,অয়ন,কেয়া, খেয়ার প্রশংসা করতে লাগলো। ওদের ৫জনকে জেলা কার্যালয় থেকে বিশেষ উপহার দেওয়া হলো।।
©তাসনীম যারীন নির্জনা

Ma shaa Allah, ma shaa Allah. Ami pori r vabi tumi kivabe eto shundor kore likho. Ma shaa Allah. Eto shundor way te shob prokash koro shotti onk valo lage jokhn golpo pori. Keep it up
ReplyDeletePost a Comment