আত্মহত্যার চেয়ে স্মৃতি হত্যা কঠিন

                   আয়েশা আফরোজা    



অনুগল্পঃ আত্মহত্যার চেয়ে স্মৃতি হত্যা কঠিন (আয়েশা আফরোজা)
অনুগল্পঃ আত্মহত্যার চেয়ে স্মৃতি হত্যা কঠিন 




আকাশে আজ মেঘ ধরেছে, এই বুঝি ঝুপ করে বৃষ্টি নামবে। এই বুঝি আবার শুরু হবে তোর কথা মনে করা....

"ফারিহা, কি খুজে পাস তুই এই খালি আকাশে? মেঘই তো ধরে মাঝে মধ্যে" এই বলেই কবির আমায় প্রশ্ন করতো।

"বোকা! ওই আকাশটাইতো দুরুত্ব মিটায়! এ পার আর ওপারের রাস্তা যে একই"...

"এহহহহ! ছোট একটা জীবন! এইসব গুরুগম্ভীর কথা কিভাবে ভাবিস তুই! বিয়ে কর, বিয়ে! বুঝছিস? তাহলেই দূরত্ব মিটে যাবে।" এই বলেই কবির হাসতে লাগলো। ওর মুখ থেকে আমার বিয়ের কথা শুনলেই প্রচণ্ড রাগ হত, মনটা চাইতো ওর মাথাটা ফাটায় দি তখুনি! জেনেশুনে কস্ট দেয় কেনো ছেলেটা!


অভিমান করে ওর সাথে কথা হয়নি অনেকদিন। বৃষ্টিস্নাত এক বিকেলে কবির একগুচ্ছ কদম নিয়ে হাজির! কদমগুলো আমার হাতে দিয়ে বললো, ফারিহা, "বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল আমি তোকে করেছি দান, আমি শুনাতে এসেছি তোকে শ্রাবণের গান।’ 

শুনে আমার প্রচণ্ড রাগ হলো, কদম আমার পছন্দ না! সূর্যমুখী পছন্দ, এটা জানার পরেও ও কিনা আমার জন্য একগুচ্ছ কদম ফুল নিয়ে এসেছে!!

আমার রাগান্বিত চেহারা দেখে কবির বললো, "শুন! আমার উপর অভিমান করে থাকিস না, সময় খুব কম" এই বলে তার চোখে থাকা অসহায়ত্বটা আমি দেখেছি। দেখেছি আমার জন্য ঠিকড়ে পড়া তার একরাশ মায়া...



আমাকে দেওয়া ওর শেষ চিঠিতে খুব ছোট করে কিছু লিখা ছিল, "তুই সূর্যমুখী পছন্দ করিস, কিন্তু সূর্যমুখীতো শুরু থেকেই হাসে, তুই গোলাপ হইস না, যে হাসলে তার অস্তিত্ব থাকে না ! তুই হাসতে শিখ, আর কাউকে ছাড়া নতুন করে বাঁচতে শিখ"।

চিঠিটা দেখে আমিও বলি নাই আর কিছু। এমন আরো অনেক কথাই আছে যেগুলার উপর আমার মান-অভিমান জমে আছে। ভেবেছিলাম, যেই দিন যাবি, সেই দিন সব রাগ, অভিমান ভেঙে যাবি আমার!

ভাবতে পারিনি আমি, "জীবনটা ছেড়ে দিস না, শেষ পাতা পর্যন্ত পড়িস" এই বলাটা মানুষটা আজ আর নেই.... এই বলা মানুষটা নিজেই জীবনটা ছেড়ে দিলো। আর একটু লড়াই করলি না কেনো? এইভাবে নিজেকে শেষ করতে একটুও বুক কাঁপেনি? সত্যিই কি তুই এত পাষাণ ছিলি?


আমার রাগ, অভিমানটাও ভেঙে গেলি না। তুই নেই তা আজও আমি বিশ্বাস করিনা। করিনা না বলেই তোর স্মৃতি নিয়ে আজও বেঁচে আছি। ১০ টা বছর তো এভাবেই পার হলো। বাকী জীবনটাও এভাবেই স্মৃতিগুলো আগলে রেখে কাটায়া দিতে চাই।

মনের আলাপনে ওকে বললাম, দেখ, আকাশ ঠিকই আমাদের দূরত্ব মিটায়। ওপারে থেকেও মনে হয় তুই আমার খুব কাছেই আছিস। কখনো বৃষ্টির পানি হয়ে ছুঁয়ে যাইস, কখনওবা আকশের তারা হয়ে রাস্তা দেখাইস। আমি কিন্তু শেষ পাতা পর্যন্তই পড়বো জীবনের বইটার। শেষ পাতায়ও আমি চাইবো তোকে।

আজ মনে হয় আর বৃষ্টি হবে না। মেঘগুলো এখন আর আমার আকশে নেই। আজ বোধহয় তোকে আর ছোঁয়া হবে না। পৃথিবী জুড়ে হাজারো না পাওয়ার হাহাকার চলেছে বিষাক্ত এক প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনার থাবায়! হয়ত সেই হাহাকারগুলো মুছতে মেঘগুলো নিরন্তর ছুটে চলেছে... আর আমিও অপেক্ষায় আছি তোকে ছুঁয়ে দেখার...

Fund For Healthcare Around The World 





©লেখক স্বত্বঃ আয়েশা আফরোজা

📚প্রকাশন কার্টেসিঃ রু দ্র ন  

2 Comments

  1. মাশাআল্লাহ......খুব সুন্দর হইছে!অনেক অনেক ভালোবাসা আর শুভকামনা রইলো আয়শা ❤❤

    ReplyDelete
  2. লিখাতে সাহিত্যের রসবোধ যথেষ্ট। তবে রচনাশৈলীটা আরেকটু প্রাঞ্জল হলে ভালো হতো। পাশাপাশি বানানও। বানানের কিছু ভুল : কস্ট(ষ) , খুজে (ঁ), দুরুত্ব (ঊ-কার + 'র'তে ু হবে না), বাকী (ই-কার হবে), করিনা (না আলাদা হওয়ার কথা)......
    .
    টাইপ মিস্টেকও হয়েছে কয়েকটা। কয়েক জায়গায় আঞ্চলিকতার প্রয়োগও ভালো দেখায় নি। তবে কথাগুলো নিরুৎসাহিত করার জন্য না, এগুলা প্রেরণা যোগাবার জন্য। এগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখলে আগামীর পথচলাটা সুগম হবে, ইনশা আল্লাহ।
    .
    আরেকটা বিষয়, লেখার ক্ষেত্রে আমাদের রুচিবোধের মনে হয় একটু চেঞ্জ আনা প্রয়োজন। মানুষকে পাহেশা কাজে ইনস্পায়ার না করে ভালো কাজে ইনস্পায়ার করা যেতে পারে। আমাদের লেখাগুলো যদি মানুষকে আলোর পথ দেখায়, তবে এটার প্রতিদান সুমিষ্ট। আর যদি অন্ধকারের গভীরে ঠেলে দেয়, নিয়ে যায় রব থেকে অনেক দূরে, তবে...........

    ReplyDelete

Post a Comment

Previous Post Next Post