শিশুতোষঃ আকাশের রং তুলি [তাসনীম যারীন নির্জনা]
শিশুতোষঃ আকাশের রং তুলি [তাসনীম যারীন নির্জনা]  


|| আকাশের রং তুলি ||

তাসনীম যারীন নির্জনা


অনেক বড় উঁচু পাহাড়ে দাঁড়িয়ে আছি। মেঘগুলো খুব ই কাছে। মনে হচ্ছে হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যাবে।এত সুন্দর আকাশ খুশিতে ডগমগ হয়ে হাত বাড়ালাম। কি ব্যাপার হাতের মধ্যে উষ্ণ ছোঁয়া।মেঘ তো উষ্ণ হওয়ার কথা না! তাপমাত্রা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে । হঠাৎ রহিমা খালার বাজখাঁই ডাক  এই নীলিমা হাত সরাও। রহিমা খালা পাহাড়ে কিভাবে উঠলো!উনার না কোমরে ব্যাথা।আবারও আরও জোরে দিগুণ কম্পাংকে ডাক কানে আাসলো। 


চোখ খোলে দেখি আমার হাত মেঘ কে নয় গরম চা এর কাপকে স্পর্শ করে রেখেছে"। আর একটু হলে গরম চা হাতে পরতো তুমি ঘুমের মধ্যে হাত টেবিলে রাখা চা এর উপর কেন বাড়ালে! ভাগ্য ভালো আমি রুমে আসছিলাম"-খালা বলতেই লাগলো।খালা একবার কথা শুরু করলে উনাকে থামানো কষ্টদায়ক।তাই উনি আর ও কিছু বলার আগে আমিই বললাম বুঝতে পারিনি খালা, ধন্যবাদ ডাক দেওয়ার জন্য।পাশের রুম থেকে আম্মু খালাকে  ডাক দেওয়ায়  খালা আর কিছু না বলে চলে গেল। আমি  চা এর কাপ হাতে নিয়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম। চা খেতে খেতে আকাশের দিকে  তাকিয়ে রইলাম।


খন্ডগল্পঃ ময়নাতদন্তের ইতিবৃত্ত 


আকাশের দিকে তাকালে আমি যেন কোথায় হারিয়ে যাই। মনে হয় যেন ওই রহস্যময় আকাশ আমাকে তার দিকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে।আমি হারিয়ে যায় আকাশের ওই নীলে। হঠাৎ তাকিয়ে দেখি আব্বু আমার দিকে তাকিয়ে আছে।আব্বু কখন আসলে! বুঝতেই পারি নি।ডাকো নি কেন আমায়।আব্বু হাসি দিয়ে  বলল, ইচ্ছে করেই ডাকি নি।আমার মেয়ে প্রকৃতিকে মুগ্ধ হয়ে উপলব্ধি করছিল আমি কি করে তার মনোযোগ অন্য দিকে নেই । আমি মুচকি হাসি দিলাম। বাসার সবাই জানে আকাশের প্রতি আমার এই কৌতূহল-আগ্রহের  কথা।আমি আব্বু কে বললাম, কিছু কি বলবে? 

- হ্যাঁ, তোমার তো বার্ষিক পরীক্ষা শেষ। এখন কি করার পরিকল্পনা?

- এখনো তো কিছুই ভাবি নি, আব্বু। তবে গতকাল পরীক্ষা শেষ হওয়ায় পর রাইসা বলছিল একটা বড় আর্ট কমপিটিশন হবে নাকি আামাদের জেলায়। অনেক বড় বড় চারুশিল্পী ও নাকি আসবে। আমি আব্বু কে বললাম,

- আমি কি অংশগ্রহন করব?

- অবশ্যই করবে।

রাইসা আরও বলেছিল প্রথম দশ জন কে পুরস্কৃত করা হবে।প্রথম তিন জন এর জন্য রয়েছে বিশেষ পুরস্কার। প্রথম তিন জন কে বিমান এ  কক্সবাজার তিন দিন বেড়ানোর ব্যবস্থা করে দিবে। তাদের সাথে তাদের পরিবারের একজন যেতে পারবে।আব্বু বললো, 

- এটা তো খুব আকর্ষণীয় পুরস্কার। আর তোমার জন্য তো খুবই স্পেশিয়াল। কাছ থেকে আকাশ আর সমুদ্র একসাথে দেখা হবে।

 আমি ভয়ে ভয়ে আব্বু কে বললাম, 

- সারাদেশ থেকে প্রতিযোগী আসবে। আমি কি পারব প্রথম তিন জনের মধ্যে নিজের জায়গা করে নিতে? তখন আব্বু বললো,

- আকাশের প্রতি ভালোবাসায় তোমাকে আকাশ জয় করতে সাহায্য করবে।

- কিন্তু আব্বু আমি তো তেমন ভালো আঁকতে পারি না। আর আমি কি আঁকব প্রতিযোগিতায় সেটা ও তো বুঝতে পারছিনা।আব্বু বলে উঠে তুমি আকাশ আঁকবে। কথাটা শুনেই মনের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়ে গেল। কিন্তু আমি তো জলরঙ দিয়ে আকাশ আঁকতে পারি না! প্রতিযোগিতায় তো জলরঙ ব্যবহার  করতে বলেছে।এটা ভেবে মন খারাপ হয়ে গেল। আব্বু আমার মুখ দেখে বললো,কি ব্যাপার! মন খারাপ হলো কেনো? - - আব্বু আমি তো জলরঙ দিয়ে আকাশ আঁকতে পারি না। 

- তাহলে আর কি করার অন্য কিছু ই আঁক যেটা তুমি ভালো পারো। কিন্তু আমার মন মানতে চাচ্ছে না।তাই আব্বুকে  বললাম, না আববু আমি আকাশ ই আঁকব। আকাশ এঁকেই আকাশ জয় করব। মনের মধ্যে একটা বিশ্বাস চলে এলো যে পারব আমি।এই দশ দিনের মধ্যেই আমি আকাশ আঁকা শিখে ফেলবো ইনশাল্লাহ। আব্বু আমার মাথায় হাত রেখে আদর করে বললো, এই না হলে আমার মেয়ে।আচ্ছা সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে, নামাজ পড়তে যাও। আমি মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে আসি। এই বলে আব্বু চলে গেলো। আমার মধ্যে তখনও আকাশ জয় করার উত্তেজনা কাজ করছিল।


 নামাজ পড়ে বসার ঘরে গিয়ে আম্মুর সাথে গল্প করতে গেলাম। আমার প্রতিযোগিতার কথা বললাম। এমন সময় আব্বু বাহির থেকে নামাজ পড়ে এলো। আব্বুর হাতে কিসের যেন একটা প্যাকেট। আব্বু আমাকে হাতে দিয়ে বললো খুলে দেখো।প্যাকেটটা খুলে দেখি জলরঙ। আব্বু আমার জন্য জলরঙ নিয়ে এসেছে। আমি খুব খুশি হলাম জলরঙ দেখে।রাতে আকাশ আঁকতে বসলাম। কিছুক্ষণ চেষ্টা করে সেদিনের মতো ঘুমিয়ে পড়লাম।


ছোটগল্পঃ এক জোড়া ক্লান্ত পা 


পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি কেয়া আপু আর খালামনি এসেছে। কেয়া আপু দশম শ্রেণীতে পড়ে। আমাকে খুব আদর করে।আমি গিয়ে খালামনিকে জড়িয়ে ধরলাম। কেমন আছেন  খালামনি? কতদিন পর আসলে আমাদের বাসা।কেয়া আপু বলে উঠলো,"হ্যাঁ,  খালামনি ই তো সব।আমাদের দিকে কেউ তাকালো ই না। আমি দৌড়ে গিয়ে ঝাঁপটে কেয়া আপুকে ধরলাম।কে বলেছে তুমি কেউ না।তুমি তো আমার সবচেয়ে প্রিয় আপু। কেয়া আপু আমার জন্য অনেকগুলো চকোলেট নিয়ে এসেছে। আমি তো খুশিতে লাফাচ্ছিলাম।তারপর আব্বু অফিসে চলে গেল।।আম্মু আর খালামনি গল্প করা শুরু করে দিল।আমি কেয়া আপুকে আমার রুমে নিয়ে আসলাম।


কেয়া আপু বলে উঠলো, "তুমি তো  এবার সপ্তম শ্রেণীতে উঠবে তাই না?"জি আপু ।তারপর আমি  কেয়া আাপুকে প্রতিযোগিতা নিয়ে সব বললাম। আপু বললো তাহলে আর দেরি কিসের, এখন থেকেই আঁকা শুরু করে দাও।আমি তুলি আর জলরঙ নিয়ে বসে পড়লাম। কেয়া আপু পাশের রুমে গোসল করতে চলে গেল। আমি রং দেখে কনফিউজড হয়ে গেলাম। আকাশের রং তো নীল  কিন্তু এইখানে তো নীল রং দিয়ে আকাশের রং এর মতো হচ্ছে না। আবার মেঘ ও আঁকতে পারছিনা।একঘন্টা পর কেয়া আপু আমার রুমে আসলো।


রুমে এসে আমাকে দেখেই হাসা শুরু করল।আম্মু আর খালামনিকে ও নিয়ে আসলো। উনারা ও হাসছে। আমি কিছু না বুঝতে পেরে বললাম হাসছো কেন তোমারা !  তখন কেয়া আপু আমাকে আয়নার সামনে নিয়ে গেল।আয়নাতে তাকিয়ে দেখি আমার সারা মুখে, জামায়,হাতে রং লেগে আছে।আমি লজ্জা পেয়ে আম্মুর কাছে চলে যায়।কেয়া আপু বললো "দেখি কি এঁকেছো"?আকাশের রঙের সাথে তো জলরঙ মিলছে ই না, আপু।কেয়া আপু আবার হাসি দিয়ে বললো আরে পাগলি দুটো রং মিশিয়ে আঁকতে হবে।আচ্ছা, আমি তোমাকে শিখিয়ে দিচ্ছি কিন্তু এর আগে যাও গোসল করে আসো। কি অবস্থা করেছ নিজের।আগে আমাকে শিখিয়ে দাও আপু।নাহলে আবার রং লাগবে জামায়।


ছোটগল্পঃ অন্তর জানে 


 এটাতো বাহানা ছিলো। আসলে তো আকাশ আঁকা না শিখা অবধি আমি শান্তি পাচ্ছিলাম না।কেয়া আপু রাজি হয়ে গেল  বললো, "আচ্ছা আসো"। আম্মু আর খালামনি চলে গেল পাশের রুমে। কেয়া আপু আমাকে বললো আকাশে রঙ হবে হালকা নীল।এজন্য তোমাকে নীল রং আর সাদা রং মিশিয়ে তারপর রং করতে হবে।আর মেঘের রং টা হবে ধবধবে সাদা দেখো এভাবে বলে আপু আঁকা শুরু করে। আপু নিচে পাহাড় কিভাবে আঁকব?আপু তখন মুচকি হাসি দিয়ে বললো," আকাশ কি তোমার অনেক ভালোলাগে।"আমি অবাক হয়ে বললাম আপু তুমি কিভাবে বুঝলে!  আকাশ আঁকা শেখার প্রতি তোমার কৌতূহল দেখে। 


আমি যখন আকাশ আঁকছিলাম তোমার চোখগুলো আনন্দে ঝলঝল করছিল।তখন আমি কেয়া আপুকে আমার আকাশের মেঘ ছোঁয়ার স্বপ্নের কথাটা বললাম।আমি যে মাঝেমধ্যেই এই স্বপ্ন টা দেখি এটা ও বললাম।আপু তখন বললো আকাশের প্রতি এত আগ্রহের কারণেই তুমি এমন  স্বপ্ন দেখছ।মানুষের অবচেতন মনের ইচ্ছা স্বপ্নের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।এমন সময় আম্মু এসে বললো কতটুকু আঁকা শিখালে।এই তো খালামনি আকাশ আঁকা শিখাচ্ছি এখনও পাহাড় আঁকা হয় নি।আম্মু বললো," আচ্ছা রাতে বাকিটা শিখাবে।আসো খেয়ে নাও।নীলিমা যাও তাড়াতাড়ি গোসল করে এসো। "

আমি গোসল করতে চলে গেলাম। দুপুরে খাবার পর সবাই ঘুমিয়ে পড়লাম। সন্ধায় নামাজ পড়ে সবাই একসাথে কিছুক্ষণ গল্প করলাম।তারপর কেয়া আপু আর আমি আবার আকাশ আঁকতে বসলাম । আপু আমাকে পাহাড় আঁকাটা ও শিখিয়ে দিল।তারপর আমি নিজে আকাশ আঁকতে বসলাম। নীল রং,সাদা রং মিশিয়ে আকাশ আঁকলাম।তারপর মেঘ, পাহাড় আঁকলাম।কিন্তু আপুর মতো সুন্দর হচ্ছে না। কেয়া আপু বললো প্রথমবার    তো তাই এমন হয়েছে। 


আস্তে আস্তে আঁকতে আঁকতে ঠিক হয়ে যাবে। রং সঠিকপরিমানে মিশ্রিত করাটা খুবই জরুরি।তারপর তুলি ঠিকভাবে ধরা আরও অনেককিছু ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে। কাল আবার এঁকো। এখন চলো এশার নামাজ পড়ে নেই।নামাজ পড়ে খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়লাম। পরেরদিন সবাই বাইরে ঘুরতে গেলাম।যদি ও আমার তেমন ইচ্ছে ছিল না।যতক্ষন অব্দি ছবি আঁকা ভালোভাবে শেষ হয় আমি শান্তি পাচ্ছি না।আমি না গেলে কেয়া আপু কষ্ট পেতো তাই গেলাম। 


রাতে এসে সবাই ঘুমিয়ে পড়লো। আমার ঘুম আসছিলো না।আমি আরও দুয়েকবার ছবিটা আঁকলাম।তারপর ঘুমিয়ে পড়লাম। পরেরদিন সকালে অনেকবার আঁকার পর কেয়া আপু ঠিক হয়েছে বললো। কিন্তু আমার কেন যে মনের মতো হচ্ছে না।আমার মন খারাপ হয়ে গেল। বাবা আর কেয়া আপু অনেক বুঝালো কিন্তু আমার মন ভালো হচ্ছিল না।আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। বেশি মন খারাপ হলে আমি ঘুমিয়ে যাই।ঘুম থেকে উঠে দুপুরে সবাই একসাথে খেতে বসলাম। আমার মন তখনও খারাপ ছিল।


 আমি চুপ করে খাচ্ছি। তখন কেয়া আপু আম্মুকে বলল," খালামনি চলেন আপনারা সবাই কাল আমাদের সাথে চট্টগ্রাম আমাদের বাসায়। আমরা সবাই নীলাচল ঘুরতে যাব। নীলিমা ওইখানে বসেই আকাশ আঁকা শিখবে। প্রকৃতির এত সুন্দররূপ  কাছ থেকে দেখে নীলিমা ঠিক ই তার মনের মতো আকাশ আঁকতে পারবে। আর ওর স্বপ্ন ও সত্যি হয়ে যাবে"।খালামনি ও কেয়া আপুর সাথে বললো যাতে আমরা সবাই যায়।আব্বু ও আমার কথা ভেবে রাজি হয়ে গেল। পরের দিন দুপুরে আমরা চট্টগ্রামে যাওয়ার ট্রেনে উঠলাম।যাওয়ার পথে ট্রেন থেকে পাহাড়গুলো দেখা যাচ্ছিল।আমি পাহাড়গুলোর দিকেই তাকিয়ে ছিলাম।


রাতে আমরা চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছালাম।খালামনির বাসা স্টেশনের কাছেই।আঙ্কেল আর কেয়া আপুর ছোট বোন খেয়া এসেছে স্টেশনে আমাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য। বাসায় গিয়ে গোসল করে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে আবার নীলাচলের উদ্দেশ্য বের হতে হবে। আমি আগেই জলরঙ, তুলি, কাগজ -ছবি আঁকার প্রয়োজনীয় সবকিছু আমার ব্যাগে গুছিয়ে রেখেছিলাম।


পরের দিন নীলাচল গেলাম। এত সুন্দর জায়গা।সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি কত অপরুপ!চারদিকে সবুজে ঘেরা আর উপরে বিশাল আকাশ।মেঘগুলো খুব কাছে মনে হচ্ছিল।এত মনোরম পরিবেশ।পাহাড়ের উপর একপাশে আমরা সবাই বসলাম। কেয়া আপু একপাশে কিছুটা দূরে আমার ছবি আঁকার ব্যবস্থা করে দিল।আমি একমনে মনের আনন্দ রং তুলির সাথে মিশিয়ে আকাশ আঁকলাম।অনেকগুলো আঁকার পর আমার মনের মতো ছবি আঁকতে পারলাম। আব্বু আম্মু কেয়া আপু সবাইকে আমার আঁকা আকাশের ছবি দেখালাম।সবাই অনেক প্রশংসা করলো।


 নীলাচলে আরো  কিছুক্ষন ঘুরলাম। রাতে আমরা কেয়া আপুদের বাসায় পৌঁছালাম।কেয়া আপুদের বাসায় আরও একদিন থেকে তারপর আবার আমাদের বাসায় ফিরলাম।বাসায় এসে আরও অনেকবার আকাশ আঁকলাম।অবশেষে প্রতিযোগীতার দিন আসল।আব্বু আমাকে নিয়ে গেল প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহনের জন্য। সময় ৪০ মিনিট। আমি তুলি হাতে নিয়ে সাবধানে সাদা আর নীল রং একত্রে করে হালকা নীল রং করে আঁকা শুরু করলাম। আমার চোখে তখন নীলাচলের দৃশ্যটা ভাসছিল। তুলিতে যখন রং নিয়ে ছবি টা আঁকছিলাম মনে হচ্ছিলো তুলির  সাথে শুধু রং না আামার আকাশের প্রতি ভালোবাসাটাকে ও মিশিয়ে আঁকলাম।৪০ মিনিট শেষ হয়ে গেলো।চিত্রটা জমা দিলাম। ৩ দিন পর ফলাফল দিবে। এই ৩ দিন যে কিভাবে কাটিয়েছিলাম!একটু পর পর শুধু রেজাল্টের চিন্তা মাথায় চলে আসতো।যার যার স্কুলে কল করে জানিয়ে দেওয়া হবে রেজাল্ট।স্কুল থেকে শিক্ষক কল করে জানিয়ে দিবেন অভিভাবকদের।


Fund For Healthcare Around The World 

দুপুর হয়ে গেল এখনি স্কুল থেকে কোনো কল আসেনি।তাহলে কি সব চেষ্টা বৃথা গেল।হঠাৎ করে আব্বুর ফোন আসলো। দৌড়ে গিয়ে ধরলাম।দেখি সীম কোম্পানির কল আসছে।সব আশায় পানি দেওয়া যাকে বলে।  একটু পর আরেকটা কল আসলো আমি আর যায় নি কল ধরতে। আব্বু গিয়ে ধরলো।কল করেছে আমাদের শ্রেণি শিক্ষক মোশাররফ স্যার।আব্বু ফোন ধরার সাথে সাথেই স্যার বলে উঠলেন, "অভিনন্দন আতিক সাহেব। নীলিমা প্রতিযোগীতায় প্রথম হয়েছে। কাল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হবে। আমাদের স্কুলেই। ১০ টার মধ্যেই চলে আসবেন।" রেজাল্ট শুনে খুশিতে কি করব বুঝতে পারছিলাম না।কেয়া আপুকে কল করে আগে খবরটা জানালাম।কেয়া আপু অনেক খুশি হলো।একটু পর রাইসা কল করে অভিনন্দন জানালো।রাইসা নবম হয়েছে।সকালে ,আব্বু, আম্মুও আমি  স্কুলে গেলাম।স্কুলের অডিটোরিয়াম টা অনেক সুন্দর করে সাজানো হয়েছে।  অভিভাবকদের এক পাশে বসার ব্যবস্থা করেছে আর শিক্ষার্থীদের এক পাশে। আমি রাইসার সাথে গিয়ে বসলাম। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হলো। প্রথম পুরস্কার দশ হাজার টাকা।


একটা  সার্টিফিকেট আার সাথে বিমানে করে কক্সবাজার যাওয়া ও আসার বিমানের টিকিট আর ওইখানে ৩দিন থাকার ব্যবস্থা। দুইদিন পর ঢাকায় বিমানবন্দর থেকে বিমানে আমি আর আব্বু উঠলাম।আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না এতদিন ধরে যেই আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতাম আজ সেই আকাশে আমি উড়ছি!মেঘগুলো এত কাছে। এত সুন্দর আকাশ। আমি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি মেঘগুলোর দিকে। মেঘগুলো ঘেঁষে বিমানটা যাচ্ছিল কখনো আবার মেঘের উপর দিয়ে। আব্বু আমাকে  বললো," দেখেছ মা বলেছিলাম না আকাশের প্রতি ভালোবাসায় তোমাকে আকাশে পৌঁছাবে। দেখো আজ তুমি আকাশে।"


লেখক স্বত্বঃ তাসনীম যারীন নির্জনা 

প্রকাশনাঃ রুদ্রন 

3 Comments

Post a Comment

Previous Post Next Post