ময়নাতদন্তের ইতিবৃত্ত
(১ম পর্ব)
![]() |
| খন্ডগল্পঃ ময়নাতদন্ত (১ম পর্ব) |
রশিদ সাহেবের বাসায় পার্টি চলছে৷ প্রমোশন পার্টি।তিনি গ্লাস হাতে দাড়িয়ে আছেন৷ গ্লাসে হুইস্কি। কাজের ছেলে ছটকুকে পাঠিয়েছেন বরফ আনতে৷ বরফ ছাড়া তিনি হুইস্কি খেতে পারেন না। আশ্চর্য ব্যপার! এতোক্ষণ লাগছে কেনো বরফ আনতে?রাগ হতে লাগলো রশিদ সাহেবের। এতো লোকের সামনে উনি গ্লাস নিয়ে কতক্ষন দাড়িয়ে থাকবেন?
আজকে রশিদ সাহেবের খুশির দিন। প্রমোশন হয়েছে তার। সবাইকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদ থেকে সোজা হেড অফ দ্যা ডিপার্টমেন্ট হয়েছেন। আজকে থেকে তিনি দেশের একটি খ্যাতনামা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান। এমন একটি পদে প্রমোশন পেয়ে খুশিতে তার নাচতে থাকা উচিত। কিন্তু তিনি খুশি হতে পারছেন না। তার খুব মন খারাপ হচ্ছে। কেনো হচ্ছে সেটাও বুঝতে পারছেন না। ভেতরে একধরনের অস্বস্তি কাজ করছে। দেড়টনের এসির নিচেও রশিদ সাহেব দরদর করে ঘামছেন। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে। তিনি পকেটে হাত দিয়ে রুমাল খুজলেন। রুমাল পাওয়া গেলো না।
একঘন্টা পর ছটকু বরফ নিয়ে আসলো। রশিদ সাহেব এতোক্ষণ এভাবেই দাড়িয়ে ছিলেন৷ ছটকুকে দেখে উনার মেজাজ অতিশয় খারাপ হয়ে গেলো। ঘর ভর্তি মেহমান না থাকলে কানের নিচে সজোরে থাপ্পড় বসিয়ে দিতেন।
- এতোক্ষণ লাগলো কেনো তোর বরফ আনতে?
- স্যার ফিরিজে বরফ ছিলোনা। মোড়ের দোকান থিকা নিয়া আইসি। হের লাইগ্যা দেরি অইসে।
- গ্লাসে বরফ ঢেলে দিয়ে আমার চোখের সামনে দূর হয়ে যা। আর শোন তোর ম্যাডামকে বলবি আমার সাথে এখুনি দেখা করতে। কুইক।
- জ্বে আইচ্ছা।
রশিদ সাহেব ড্রয়িং রুমের দিকে এগিয়ে গেলেন। একা থাকতে ইচ্ছে করছে তার। সেই সু্যোগ নেই এখন। চারদিকে হৈচৈ। যে যার মতো আনন্দ করছে ঘরময়। একদল বুড়া-বুড়ি মদ হাতে হিন্দি গানের সাথে নাচানাচি করছে। বিরক্তিকর দৃশ্য। তিনি বুড়া-বুড়িকে চিনতে পারলেন না। স্ত্রীর পরিচিত কেউ হবে হয়তো। রশিদ সাহেব একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। তার প্রমোশন উপলক্ষে সবাই আমোদ ফুর্তি করছে অথচ তিনি নিজে কোন কিছুতে আনন্দ খুজে পাচ্ছেন না। ড্রয়িং রুমে ঢুকতেই সবাই কংগ্রাচুলেশন বলে চিৎকার দিয়ে উঠল। অনেকটা জন্মদিনে কেইক কাটা পর্বের মতো। সবাই হেন্ডশেক করে রোবটের মতো কংগ্রাচুলেশনস বলে যাচ্ছে। অতি পরিচিতরা করছে কোলাকুলি। তিনি নিতান্ত অনিচ্ছা নিয়ে এই ফর্মালিটিস গুলো চালিয়ে গেলেন৷
- রশিদ সাহেব আপনিতো পুরো ফাটিয়ে দিয়েছেন। ডিপার্টমেন্টে দু'দুটো মোস্ট সিনিয়র প্রফেসর থাকা সত্ত্বেও প্রমোশনটা ঠিকই নিজের ঝুলিতে ভরে নিলেন। হা হা হা। কিছু মনে করবেননা। অ্যাই অ্যাপ্রিশিয়েট ইউর সাকসেস।
রোগা চেহারার জামান সাহেব খোচা মারলো।
রশিদ সাহেব মুচকি হাসি দিয়ে খোচাটা হজম করলেন। কিছু বললেন না। এসব বিষয়ে কথা চালিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে না তার এখন ৷ রশিদ সাহেব লোক হিসেবে কেমন সেটা ডিপার্টমেন্টের সবাই জানে। কাজেই জুনিয়র হওয়া স্বত্তেও তার এই প্রমোশনের রহস্যটা সবারই বুঝতে পারার কথা। বুঝুক। তাতে তার কিছু যায় আসেনা। খোদ বানিজ্যমন্ত্রীকে দিয়ে সেট করিয়েছেন সবকিছু। ফাইভ স্টার হোটেলে মন্ত্রী সাহেবকে দাওয়াত করে এনে লাখ টাকার চেক দিয়ে কাজটা করিয়ে নিয়েছেন। মুখের কথা নাকি এটা? ব্যাটা যে হিংসায় জ্বলেপুড়ে কথাগুলো বলেছে তা বুঝতে বাকী নেই তার। আমার সাথে হিংসা করিস? সময় এলে ঠিকই সুদে আসলে বুঝিয়ে দিবো। মনেমনে বলে রশিদ সাহেব।
সারা বাড়ি খুজে লায়লাকে বারান্দায় পাওয়া গেলো। ফিরোজা ভাবির সাথে গল্প করছে। লায়লা রশিদ সাহেবের স্ত্রী। চমৎকার গড়নের গোলগাল চেহারা। বয়সের ছাপ একদমই পড়ে নি চেহারায়। দেখে কেউ বলবে না সে এক কন্যার জননী। লায়লা পড়েছে হালকা নীল রঙের শাড়ী। অপরূপ সুন্দর লাগছে তাকে। রশিদ সাহেবের মন ভালো হয়ে গেলো স্ত্রীকে দেখে৷ বিয়ের পর তার বন্ধুরা তাকে টিপ্পনী কেটে বলতো তুই জিতেছিস রশু৷ সত্যিই রশিদ সাহেব জিতেছেন৷ তার মতো পেটউচু টেকো বোকাসোকা চেহারার লোকের কপালে এমন রূপবতী বউ জুটবে সেটা তিনি কল্পনাও করেননি। শুধু কি রূপবতী? লায়লার গুনের কথা কে না জানে? তার গুনের কথা বলে শেষ করা যাবেনা৷ কি সুন্দর করে রশিদ সাহেবের সংসারটাকে গুছিয়ে রেখেছে। বাচ্চা সামলাচ্ছে, সংসার সামলাচ্ছে তারচেয়ে বড় কথা সবসময় তাকে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে। এই মূহুর্তে রশিদ সাহেবের ইচ্ছে করছে লায়লার গালে গিয়ে একটা চুমু দিয়ে আসতে৷
- লায়লা একটু এদিকে শোনে যাও।
- দু'মিনিট দাড়াও৷ আসছি।
লায়লা ফিরোজা ভাবির সাথে কথা শেষ করে স্বামীর কাছে আসলো।
- বলো ডেকেছো কেনো? কিছু লাগবে?
- না। কিছু লাগবে না। তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে আজকে।
- ধূর! শাড়ির কুচি এলোমেলো হয়ে আছে দেখতে পাচ্ছো না? টিপটাও তো মনেহয় বাকা হয়ে গিয়েছে৷ যাইহোক এটা বলার জন্য ডেকেছো?
- না। ডেকেছি অন্যকারনে৷ সেটা এখন বলতে ইচ্ছে করছে না। এখন তোমার সাথে গল্প করতে ইচ্ছে করছে।
- মদ কি বেশি খেয়ে ফেলেছো নাকি? লায়লা হেসে ফেললো। হাসলে লায়লাকে এতো সুন্দর লাগে সেটা রশিদ সাহেব এই প্রথম খেয়াল করলেন।
- শুধু মদেই নেশা হয় না ডিয়ার। নেশার বস্তু আমার সামনেই দাড়িয়ে আছে।
- উফ৷ তোমার এই নোংরা কথা শোনার সময় নেই আমার।
- আচ্ছা পার্টি শেষ হবে কখন?
- ডিনার সার্ভ করা হয়ে গিয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। আমি গেলাম।
রশিদ সাহেবের প্রচন্ড ক্লান্তি লাগছে। তিনি ঘুমানোর চেষ্টা করেও ঘুমাতে পারছেন না। চোখ বন্ধ করে আছেন। পার্টি শেষ হয়েছে বেশ কিছুক্ষন আগে। কিন্তু কানের কাছে এখনো হিন্দি গানের ঝনঝনে বিটগুলো শুনতে পাচ্ছেন যেনো। মাথাটা টিমটিম করছে৷ একটু চা খেতে পারলে ভালো লাগতো। তিনি স্ত্রীকে ডাকলেন।
- লায়লা?
লায়লা কিচেনেই ছিলো৷ কাজের মেয়ে জুলেখাকে দিয়ে ঘরদোর পরিস্কার করাচ্ছে৷ নোংরা হয়ে আছে সবকিছু। ঘরময় মদ সিগারেটের গন্ধ। এসব ব্যাপারে লায়লা খুব খুতখুতে। নোংরা জিনিসপত্র তার একদম সহ্য হয় না৷ ডাক শুনে বেড রুমে এলো লায়লা।
- ডেকেছো আমাকে?
- হ্যা৷ মাথা ব্যাথা করছে। চা করে দিতে পারবে?
- দিচ্ছি একটু দাড়াও। ঘরদোর সব ঠিকঠাক করে চা করে আনছি আমি।
লায়লা ঘরদোর গুছিয়ে স্বামীর জন্য চা করে নিয়ে এলো৷ তার হাতে র্যাপিং পেপারে মোড়ানো একখানা গিফট। স্বামীকে সারপ্রাইজ দিবে বলে এইবেলা ঘুমাতে যাবার আগে নিয়ে এসেছে।
- এটা তোমার জন্য
- আমার জন্য! কি উপলক্ষে?
- তোমার প্রমোশন উপলক্ষে।
রশিদ সাহেব চায়ে চুমুক দিতে দিতে প্যাকেটটা খুললেন। বাহ। কি সুন্দর একটা ঘড়ি। অরিজিনাল রাডো ব্রান্ডের। লায়লার পছন্দের কোন জুড়ি হয়না।
- পছন্দ হয়েছে তোমার?
- হ্যা। খুব পছন্দ হয়েছে। কখন নিলে?
- দুপুরে যখন ফোনে প্রমোশনের কথা জানালে তখন থেকেই ভাবছিলাম কিছু একটা দিবো তোমাকে। তারপর মারিয়াকে নিয়ে বের হলাম। তোমার মেয়ে পছন্দ করেছে এটা। চা কেমন হয়েছে?
- তোমার হাতের চা কখনো খারাপ হয়?
- আমি করিনি৷ জুলেখা করেছে। সেজন্য জিজ্ঞেস করলাম।
- মারিয়া কোথায়? সন্ধ্যা থেকে ওকে দেখছিনা। শরীর খারাপ করেনি তো?
- আর বলো না তোমার মেয়ের কথা। ওর বেস্ট ফ্রেন্ড রাহা আসেনি পার্টিতে। সেজন্য রাহার উপর রাগ করে কেদেকেটে একাকার অবস্থা। সন্ধ্যা থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে বসে আছে।
- সে কি! ডাকোনি ওকে?
- তোমার মেয়ে কি কারো ডাক শোনে?
- ডেকে দেখবো আমি? আমি ডাকলে শুনতে পারে।
- না থাক। লাগবেনা। আমি খাইয়িয়ে এসেছি। রুমের লাইট অফ। ঘুমিয়ে পড়েছে হয়তো৷
রশিদ সাহেব বড় আদর করেন মেয়েকে। নিজে শৈশব কৈশরে অভাবের সাথে লড়েছেন। সেজন্য বোধহয় মেয়েকে অভাব কি জিনিস বুঝতে দেননা৷ যখন যা চায় হাতের কাছে চলে আসে। জীবনে যা কামিয়েছেন হোক সেটা অসৎ পথে পুরোটাই মেয়ের জন্য রেখে যাচ্ছেন। মেয়ে মাত্র ক্লাস নাইনে পড়ে। এখনি মেয়ের জন্য ফিক্সড ডিপোজিট করে রেখেছেন। কাকরাইলে মেয়ের নামে ফ্ল্যাট কিনে রেখেছেন। যদিও মারিয়া এসবের কিছুই জানেনা এখনো।
অথচ এই বয়সে রশিদ সাহেব দুবেলা পেট ভরে খেতে পেতেন না। চাচা চাচীর অমানবিক নির্যাতন সহ্য করতে হতো এক থালা ভাতের জন্য৷ মা মারা গেলেন সাত বছর বয়সে। তার কিছুদিন পর বাবা তাকে চাচার কাছে রেখে যেয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে গেলেন৷ রশিদ সাহেব আজও জানেন না তার বাবা কোথায় আছে। আদৌ বেচে আছে কিনা। যখন একটু বড় হলেন চাচী জানিয়ে দিলেন পড়ালেখা সব বন্ধ। যার বাপের কোন খোজ নাই সে পড়ালেখা কইর্যা হইবো জজব্যারিস্টার! ঐ তুই জজব্যারিস্টার হইয়া কি তর বাপেরে খুজবি? চাচীর এককথায় পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেলো। স্কুলে যাওয়া বাদ দিয়ে চাচার সাথে কাঠমিস্ত্রীর কাজে যাওয়া শুরু করলেন। ভেবেছিলেন এবার অন্তত চাচী দুবেলা খেতে দিবেন৷ কিন্তু তা হলো না। চাচী আগের মতোই দিনের পর দিনের একই ব্যবহার করে যেতে লাগলেন। সাথে কথায় কথায় চ্যালা কাঠের মাইর তো আছেই।
ছেড়া জামাকপড়গুলোই বারবার সেলাই করে পড়তেন তিনি। গায়ে দিয়ে থাকলে কাপড় নষ্ট হয়ে যাবে ভেবে রাতে লেংটা হয়ে ঘুমাতেন। রাতে তো আর কেউ দেখবেনা। কাপড় থাকলেই কি না থাকলেই কি। ঈদচান চায় তার কপালে নতুন কাপড় জোট না। এবাড়ি ওবাড়ি থেকে পুরনো কাপড় চেয়ে এনে লজ্জা নিবারন করতে হতো তার। আর কত সহ্য করা যায়? তিনি মনে মনে কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন। একরাতে চাচাদের ঘরে ঢুকে পড়লেন। চাচা চাচী গভীর ঘুমে অচেতন। কোনকিছু না ভেবে বালিশ দিয়ে চাচীর মুখটা প্রানপণে চেপে ধরলেন। এতোদিনের জমে থাকা ক্ষোভ শরীরের সবটুকু শক্তি দিয়ে বালিশের উপর ঝেড়ে দিলেন।কাজটা করলেন অভিজ্ঞ খুনির মতো৷ যেনো খুন করে করে তার হাত পেকে গিয়েছে। সেরাতেই ট্রেনে চেপে ঢাকায় চলে এলেন।
- লায়লা, আমি যে খুব খারাপ মানুষ সেটা কি তুমি বুঝতে পারো?
- হ্যা পারি।
- কবে বুঝতে পারলে সেটা?
- তুমি জোর করে যখন আমার প্রথম বাচ্চাটাকে এবোরশান করালে তখনই বুঝতে পেরেছি তুমি ভালো মানুষ না।
- আমার বললে কেনো? বাচ্চাটাতো আমারো ছিলো। আমি কি তার বাবা না!
- যে লোক তার নিজের সন্তানকে খুন করতে পারে সে কি করে বাবা হয়? সুতরাং তুমি তার বাবা ছিলেনা এবং সেটা কখনো দাবিও করবে না।
- তখন আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিলো না লায়লা। আমি মাত্র ডাক্তারি পাশ করেছি। সংসারের অবস্থা দেখে স্কুলে চাকরী নিতে বাধ্য হলে তুমি। টেনেটুনে দুজনের চলছিলো কোনমতে। এরকম দৈন্যদশার মধ্যে একটা নতুন মানুষকে দুনিয়ায় আনলে তার সাথে অবিচার করা হতো না?
- কোন দৈন্যদশাই ছিলো না তখন। আসল কথা হচ্ছে তুমি সন্দেহ করতে এ বাচ্চা তোমার না। ভেবেছিলে এটা আমার পুরনো প্রেমিকের বাচ্চা। আমি কতো অনুনয় করেছি তোমাকে, কতবার হাত জোড় করে বলেছি এটা তোমারই বাচ্চা। তোমাকে বিশ্বাস করানোর জন্য কুরআনে শরীফ ধরে কসম কেটেছি। কিন্তু তুমি বিশ্বাস করোনি। ছিঃ!
রশিদ সাহেব চুপ করে রইলেন। তিনি লক্ষ্য করলেন লায়লার ফর্সা গাল ঝাঁপিয়ে নেমেছে শ্রাবণের অমিয় ধরা। তার গাল চিকচিক করছে। যেনো বালির উপর একফালি রূপালী জোছনা ঢলে পড়ছে এসে। লায়লা কাদছে কিন্তু কোন শব্দ হচ্ছে না। কিছুকিছু কান্না শব্দহীন হলেও এর নৈঃশব্দ্যে লুকিয়ে থাকে পাহাড় সমান ব্যাথা। রশিদ সাহেব কি চোখের পানি মুছে দিয়ে স্ত্রী কে স্বান্তনা দিবেন? না থাক। মেঘ জমেজমে আকশ যখন ভারী হয়ে যায়, কেবল একপশলা বৃষ্টিই পারে সে আকাশকে হালকা করে দিতে।
©রু দ্র

Post a Comment